বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রাক-ভোক্তা বর্জ্য (প্রি-কনজিউমার ওয়েস্ট) উৎপাদন করে। বর্জ্য রিসাইক্লিং সক্ষমতা বাড়িয়ে এবং বিপূল বর্জ্য থেকে আরো বেশি মূল্য তৈরি করে সার্কুলারিটির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।
পোশাক শিল্পকে চক্রাকার অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি শীর্ষক প্রকল্প বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ঢাকায় সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশে চক্রাকার টেক্সটাইল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যত করণীয় নির্ধারণে ‘সুইচ টু আপস্ট্রিম সার্কুলারিটি রাউন্ড টেবিল ডিসকাশন: আ পাথ টুওয়ার্ডস সার্কুলারিটি ইন বাংলাদেশ আরএমজি ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্পের অংশীজন, পোশাক খাতের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, নীতিনির্ধারক ও সাসটেইনেবিলিটি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
বৈঠকটি সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইন প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ফিনল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে ইউনিডোর নেতৃত্বে চ্যাথাম হাউজ, সার্কেল ইকোনমি, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমন্টে ব্যাংক এবং গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের সমর্থনকারীদের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠকে আলোচকরা বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও তরান্বিতকরণের ব্যাপারে কৌশল নীতি প্রণয়ন এবং একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সাসটেইনেবিলিটি মানগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রেখে শিল্পের জন্য একটি পথনকশা প্রণয়নে ভবিষ্যতে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে নিজ নিজ ধারণা শেয়ার করেন।
আলোচনার মূল বিষয় ছিলো প্রাক-ভোক্তা বর্জ্য, যা স্থানীয়ভাবে ‘ঝুট’ নামে পরিচিত, - সে ঝুটকে কিভাবে অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে আরো কাঠামোগত এবং স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য মডেলে রূপান্তর করা যেতে পারে।
বৈঠকে বিশেষভাবে অনানুষ্ঠানিক থেকে আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য মডেলে রূপান্তর, বাংলাদেশে সার্কুলারিটির ক্ষেত্রে বাস্তবতা মূল্যায়ন এবং পোশাক খাতের জন্য সহযোগিতামূলক সমাধান প্রভৃতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ তার টেক্সটাইল শিল্পকে সাসটেইনেবিলিটি এবং সার্কুলারিটির দিকে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনায় বাংলাদেশের সামনের চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই গুরুত্ব পায়।
গোলটেবিল বৈঠকে একটি টেকসই সার্কুলার মডেলের দিকে শিল্পের স্থানান্তরকে সহায়তা করার জন্য যথাযথ নীতি গ্রহণের বিষয়ে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন গ্লোবাল ফ্যাশন এজেন্ডা থেকে সামিউল হক এবং চ্যাথাম হাউস থেকে ড. প্যাট্রিক শ্রোডার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি শাখার প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার এবং সার্কুলার ইকোনমি ইন গ্লোবাল ভ্যালু চেইন, ইউনিডোর চিফ টেকনিক্যাল অফিসার মার্ক ড্রেক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালনায় গঠিত সহায়ক কমিটির সদস্য মো. রেজওয়ান সেলিম এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ভিদিয়া অমৃত খান।
আবদুর রহিম খান বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ঝুট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে এবং এটি আমাদেরকে সার্কুলারিটির দিকে স্থানান্তরে সহায়তা করবে। বাস্তবিকভাবেই সার্কুলারিটির জন্য আমাদের একটি জাতীয় কৌশল নীতি অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদেরকে অবশ্যই শুন্য-বর্জ্য নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাসটেইনেবিলিটিকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সার্কুলারিটি প্রকল্পগুলোকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে। এ গোলটেবিল আলোচনা বিজিএমইএর টেকসই কৌশলগত রূপকল্প ২০৩০ বাস্তবায়নে বিশেষভাবে অবদান রাখবে।’
ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার বলেন, ‘আমার মনে পড়ছে, গত বছর এ বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। বিজিএমইএ সার্কুলারিটির ওপর তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেখে আমি আনন্দিত। আমরা মনে করি, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য, তার পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সাসটেইনেবল এবং সার্কুলার টেক্সটাইলের জন্য ইইউ কৌশলগুলোর অধীনে, পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোকে লিনিয়ার থেকে সার্কুলার উৎপাদন মডেলে যেতে হবে।’
মার্ক ড্রেক বলেন, ‘আমরা বিশিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং ইউএন সিস্টেমের একটি বিশেষ সংস্থা হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট মূলত সরকার ও শিল্পকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখা বা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উদ্ভাবন কাজে লাগাতে সহায়তা করা। এটি এ প্রকল্পের মূল অন্তর্নিহিত বিষয়।’